মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
The Dhaka News Bangla

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শতাধিক গাছ কাটার প্রতিবাদে পরিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটির নিন্দা

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শতাধিক গাছ কাটার প্রতিবাদে পরিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটির নিন্দা
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশদ্বার ও রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে প্রায় ১০০টি পরিপক্ব গাছ কাটার অভিযোগ

উন্নয়নের নামে ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশদ্বার ও রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে প্রায় ১০০টি পরিপক্ব গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ‘প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটি’। অবিলম্বে বৃক্ষনিধন বন্ধ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবেশ পুনরুদ্ধারের দাবিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনের চেয়ারপারসন মুহাম্মদ শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ১০ অক্টোবর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আনুমানিক ১৪ বছর বয়সী প্রায় ১০০টি গাছ হত্যা করা হয়েছে। বর্তমানেও এ কার্যক্রম চলছে। এর আগে স্থানান্তরের নামে আরও ৫৪টি গাছ নিধনের অভিযোগ রয়েছে। কাটা পড়া গাছের তালিকায় রয়েছে মহয়া, জাম, শিউলি, কৃষ্ণচূড়া, বকুল, সোনালু, জারুল, পলাশ, ছাতিম, তাল ও কাঞ্চনের মতো বিলুপ্তপ্রায় মূল্যবান দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ।

উপাচার্যের সমালোচনা করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, উদ্ভিদবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ একজন উপাচার্যের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বৃক্ষনিধনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। উন্নয়ন কখনোই প্রকৃতির নির্বিচার ধ্বংসের বৈধতা হতে পারে না। নতুন চারা রোপণ করলেও পরিপক্ব বৃক্ষের পরিবেশগত অবদান তাৎক্ষণিকভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়।

এ সময় জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে কয়েকটি জোরালো দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, অবিলম্বে গাছ কাটা বন্ধ করে এর অনুমোদন, যৌক্তিকতা ও বিকল্প পরিকল্পনা প্রকাশ করা; ইতিমধ্যে কাটা ও অপসারিত গাছের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন; স্থানান্তরিত গাছগুলোর বর্তমান অবস্থা যাচাই এবং অতীতের বৃক্ষনিধনের অভিযোগসহ পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকাশ করা।

পাশাপাশি নিধন করা গাছের সংখ্যার অন্তত দ্বিগুণসংখ্যক উপযুক্ত দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটি দেশীয় প্রজাতির চারা, স্বেচ্ছাসেবী দল এবং বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বৃক্ষনিধনের নয়, বরং প্রকৃতি সংরক্ষণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বিষয় : নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

যুক্ত থাকুন দ্যা ঢাকা নিউজের সাথে

The Dhaka News Bangla

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শতাধিক গাছ কাটার প্রতিবাদে পরিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটির নিন্দা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
উন্নয়নের নামে ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশদ্বার ও রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে প্রায় ১০০টি পরিপক্ব গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ‘প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটি’। অবিলম্বে বৃক্ষনিধন বন্ধ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবেশ পুনরুদ্ধারের দাবিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি।সংগঠনের চেয়ারপারসন মুহাম্মদ শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ১০ অক্টোবর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত আনুমানিক ১৪ বছর বয়সী প্রায় ১০০টি গাছ হত্যা করা হয়েছে। বর্তমানেও এ কার্যক্রম চলছে। এর আগে স্থানান্তরের নামে আরও ৫৪টি গাছ নিধনের অভিযোগ রয়েছে। কাটা পড়া গাছের তালিকায় রয়েছে মহয়া, জাম, শিউলি, কৃষ্ণচূড়া, বকুল, সোনালু, জারুল, পলাশ, ছাতিম, তাল ও কাঞ্চনের মতো বিলুপ্তপ্রায় মূল্যবান দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ।উপাচার্যের সমালোচনা করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, উদ্ভিদবিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ একজন উপাচার্যের নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বৃক্ষনিধনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। উন্নয়ন কখনোই প্রকৃতির নির্বিচার ধ্বংসের বৈধতা হতে পারে না। নতুন চারা রোপণ করলেও পরিপক্ব বৃক্ষের পরিবেশগত অবদান তাৎক্ষণিকভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়।এ সময় জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে কয়েকটি জোরালো দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, অবিলম্বে গাছ কাটা বন্ধ করে এর অনুমোদন, যৌক্তিকতা ও বিকল্প পরিকল্পনা প্রকাশ করা; ইতিমধ্যে কাটা ও অপসারিত গাছের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন; স্থানান্তরিত গাছগুলোর বর্তমান অবস্থা যাচাই এবং অতীতের বৃক্ষনিধনের অভিযোগসহ পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকাশ করা।পাশাপাশি নিধন করা গাছের সংখ্যার অন্তত দ্বিগুণসংখ্যক উপযুক্ত দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।চিঠিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা জাতীয় কমিটি দেশীয় প্রজাতির চারা, স্বেচ্ছাসেবী দল এবং বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বৃক্ষনিধনের নয়, বরং প্রকৃতি সংরক্ষণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

The Dhaka News Bangla

সম্পাদক: তাসকিন আহমেদ রিয়াদ 

কপিরাইট © ২০২৬ The Dhaka News Bangla । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত