বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
The Dhaka News Bangla

নোয়াখালীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ: নাছিরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, ১০ নেতার পদত্যাগ

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের নিজ এলাকায় নোয়াখালী জেলা, সদর উপজেলা ও পৌরসভা শাখাসহ বিভিন্ন ইউনিটের নবঘোষিত কমিটিকে কেন্দ্র করে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে পদবঞ্চিত নেতাকর্মিরা। একই সঙ্গে নাছিরের বিরুদ্ধে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের অভিযোগ এনে তাকে জেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। দ্রুত এই কমিটি বিলুপ্ত করা না হলে আগামীতে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।সোমবার (৪ মে) দুপুরে নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মিরা। পরে তারা জেলা শহর মাইজদীর টাউন হল মোড়ে সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।বিক্ষোভ সমাবেশে নোয়াখালী পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম বলেন, ত্যাগী ও রাজপথের কর্মিদের বাদ দিয়ে ব্যক্তিগত অনুসারীদের দিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে প্রকৃত কর্মিরা বঞ্চিত হয়েছেন।সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ চৌধুরী বাবু বলেন, ছাত্রদলের ইতিহাসে এমন বিতর্কিত কমিটি আগে হয়নি। যোগ্যদের মূল্যায়ন না করে অযোগ্যদের পদ দেওয়া হয়েছে, যা তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।নাছিরের পারিবারিক পটভূমি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছাত্রদল নেতারা অভিযোগ করে বলেন, নাছির আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান, তার বাবা আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড মেম্বার। তিনি এখন আওয়ামী লীগের লোক দিয়ে আমাদের প্রাণের দল ছাত্রদলকে ধ্বংস করতে চাচ্ছেন। আমরা আমাদের নেতা তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমাদের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে এই পকেট কমিটি বিলুপ্ত করার দাবি জানাচ্ছি।তবে পকেট কমিটির অভিযোগ নাকচ করে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল বলেন, যারা পদ পাননি তারাও ত্যাগী এটা ঠিক। কিন্তু সবাইকে একসঙ্গে পদ দেওয়া সম্ভব নয়। কমিটি গঠনে যোগ্যতা ও সাংগঠনিক বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। আপনারা আমার ছাত্ররাজনীতির অতীত পদ পদবী গুলো দেখেন। আমি মামলা-হামলার শিকার হয়েছি।  এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।পরে বিক্ষোভ শেষে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাহেদ চৌধুরী বাবু, তারেক নূর, ইয়াসিন আরাফাত, সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর হোসেনসহ ১০ জন ছাত্রদল নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নোয়াখালী সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ চৌধুরী বাবু, পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম, সদস্য সচিব মোহাম্মদ সজীব, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন রকি, নোয়াখালী কলেজের সাবেক সভাপতি আকবর হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত শুভ, উপজেলা ছাত্রদল নেতা রিজভী, তারেক নূর প্রমূখ। 
০৪ মে ২০২৬

স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক-৪

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা এলাকায় স্বামীকে আটকে রেখে এক গৃহবধূকে (২১) তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।সোমবার (৪ মে) ভোরে উপজেলার কামারখোলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃত আসামিরা হলেন, মো. তারেক, পিতা: আলমগীর হোসেন মো. আরিফ, পিতা: আলমাছ, মো. ইসমাইল, পিতা: জয়নাল।অপর একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।  তাদের সবাই কামারখোলা গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, রোববার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ওই দম্পতি মাদারপুর গ্রাম থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে কামারখোলা-এওয়াজবন্দ সড়কের একটি নির্জন স্থানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা কয়েকজন যুবক তাদের পথরোধ করে। এ সময় স্বামীকে মারধর করে আটকে রাখা হয় এবং গৃহবধূকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।অভিযোগ রয়েছে, রাতভর ওই গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। পরে ভোররাতে ভুক্তভোগীর স্বামী স্ত্রীকে ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা তার কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে তিনি আত্মীয়-স্বজনদের বিষয়টি জানিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ-এর সদস্যরা ভোর ৫টার দিকে কামারখোলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও কয়েকজন পালিয়ে যায়।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিল্লা চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
০৪ মে ২০২৬

চান্দিনায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে| রবিবার (৩ মে) বিকেলে চান্দিনা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে এ আয়োজন করা হয়|চান্দিনা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টে ইউনিয়ন পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী দলগুলো প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে উত্তীর্ণ হয়| পরে উপজেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলায় বিজয়ী দলগুলো জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ অর্জন করে|ফাইনাল খেলায় বালক বিভাগে পানিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১-০ গোলে ধেরেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে| অন্যদিকে বালিকা বিভাগে করতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩-০ গোলে মুরাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়| এর মাধ্যমে বিজয়ী দল দুটি জেলা পর্যায়ের খেলায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করে|ফাইনাল খেলা শেষে বিজয়ী দলগুলোর হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন|অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক| তিনিই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঘোষণা করেন|এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রুনাক জাহান, লিপিকা রানী পোদ্দার, মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, ফাতিহা বিনতে বশীর ও মো. কাউছার আহমেদ ভূইয়া| এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. আনোয়ার হোসেন, মো. ছফিউল্লাহ, মো. কাউছারুজ্জামন, মো. কামাল উদ্দিন ভূইয়া এবং এ.কে.এম নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ|অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের ¯^তঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়| আয়োজকরা জানান, এ ধরনের টুর্নামেন্ট শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে|
০৪ মে ২০২৬
চান্দিনায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদান

চান্দিনায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদান

কুমিল্লার চান্দিনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মহিচাইল ইউনিয়নের জামিরাপাড়া গ্রামে সংঘটিত ওই অগ্নিকাণ্ডে ৬টি বসতঘর ও ৩টি রান্নাঘর পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়, এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক পরিবার।সোমবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৭টি পরিবারের মাঝে সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেক তুলে দেন কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন।এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ মানিক মিয়া, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আবু জাফর, উপজেলা প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার এবং উপজেলা সমবায় সমিতির সভাপতি এবিএম সিরাজুল ইসলাম।
০৪ মে ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

জাতীয়

জাতীয়

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে স্বাধীনভাবে ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন করতে পারে এবং নিজ নিজ অধিকার ভোগ করতে পারে, এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণই আমাদের সরকারের প্রধান দায়িত্ব ও অঙ্গীকার।আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না।’তারেক রহমান বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও তা করিনি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি সবাই সব ক্ষেত্রে সমান অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।তিনি বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রতিটি মানুষের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এ দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। তাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার, আমার ও আমাদের সকলের।’বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সকল বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। তিনি আরও বলেন, আপনারা কেউ নিজেদের কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না।শুরুতেই সারা বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তাঁর অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন।তিনি বলেন, এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি না করা, ব্যভিচার না করা, মিথ্যা না বলা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা।প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যার যার ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে, আমরা সকলে মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণ করতে পারবো।শুভেচ্ছা বিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং ড. সুকোমল বড়–য়া উপস্থিত ছিলেন।এ সময় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট ও বুদ্ধমূর্তির প্রতিরূপ তুলে দেওয়া হয়।
৩০ এপ্রিল ২০২৬
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক

ফ্লোরিডায় নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার

ফ্লোরিডায় নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, তার মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।শুক্রবার (১ মে) দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, ফ্লোরিডা পুলিশ বৃষ্টির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় মরদেহটি তার বলে নিশ্চিত করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহযোগিতায় মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।একই ঘটনায় নিহত আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহও দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জানা গেছে, ২ মে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে এবং দুবাই হয়ে ৪ মে ঢাকায় পৌঁছাবে।প্রসঙ্গত, প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২৪ এপ্রিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। একই দিনে নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিও। পরবর্তীতে ফ্লোরিডার একটি জলাশয় থেকে তার মরদেহের অংশ উদ্ধার করা হয়।এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
০১ মে ২০২৬
ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

শিল্পী এস এম সুলতান পুরস্কার পেলেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অরিন সাহা

শিল্পী এস এম সুলতান পুরস্কার পেলেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অরিন সাহা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ২০২৬’-এ মর্যাদাপূর্ণ ‘শিল্পী এস এম সুলতান পুরস্কার’ অর্জন করেছেন ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অরিন সাহা। রোববার (৩ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও মনন দিয়ে বাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তুলছে। অরিন সাহার মতো তরুণ শিল্পীদের এই অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গৌরবের। আমরা বিশ্বাস করি, এখান থেকেই আগামীর এস এম সুলতান বা জয়নুল আবেদীনরা তৈরি হবে, যারা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সুনাম বয়ে আনবে। শিল্পাচার্যদের নামে প্রবর্তিত এই পুরস্কারগুলো নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীল কাজে আরও অনুপ্রাণিত করবে।’পুরস্কার পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় উচ্ছ্বসিত অরিন সাহা বলেন, ‘শিল্পী এস এম সুলতান আমার কাছে অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর নামে প্রবর্তিত এই সম্মাননা পাওয়া আমার জন্য গর্বের। চারুকলা অনুষদ ও ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যানভাসে মানুষের জীবন আর প্রকৃতিকে তুলে ধরার যে চেষ্টা আমি করি, এই পুরস্কার সেই যাত্রায় আমাকে আরো অনুপ্রেরণা জোগাবে।’উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এই বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে ড্রইং অ্যান্ড পেইন্টিং, গ্রাফিক ডিজাইন ও প্রিন্টমেকিং—এই তিনটি শাখায় মোট ১৬ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজগুলো দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানে চারুকলা অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
০৩ মে ২০২৬
ওয়েব স্টোরি

ওয়েব স্টোরি

নির্বাচন

নির্বাচন

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

শান্তিপূর্ণ ভোটে হাইমচর প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত

চাঁদপুরের হাইমচর প্রেসক্লাব–এর বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪৭ জন। এর মধ্যে ৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।সভাপতি পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে মোঃ মহসিন মিয়া (প্রতীক: কলম) ১৯ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জি এম ফজলুর রহমান (প্রতীক: চশমা) পেয়েছেন ১২ ভোট এবং মাসুদ আলম রিয়াদ (প্রতীক: মোবাইল) পেয়েছেন ৩ ভোট।অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে জাহিদুল ইসলাম (প্রতীক: ক্যামেরা) ২০ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান আল মামুন (প্রতীক: ল্যাপটপ) পেয়েছেন ১৪ ভোট।সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে প্রেসক্লাবের সদস্যরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন নেতৃত্ব প্রেসক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২২ এপ্রিল ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

নির্বাচনী মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি

২২ এপ্রিল ২০২৬
ক্রিকেট

ক্রিকেট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ: বিক্রি হয়ে গেছে সব টিকিট

অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা পেরিয়ে অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর ঐতিহাসিক আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে উঠেছে। ম্যাচের সব টিকিট খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে গেছে; একই সঙ্গে কলম্বোমুখী ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়ায় নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। রাজনৈতিক ইতিহাস, সীমান্ত উত্তেজনা ও দীর্ঘদিন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হওয়ায় আইসিসি ইভেন্টেই মুখোমুখি হয় দু’দল। ফলে এমন ম্যাচকে ঘিরে দর্শক আগ্রহ যে অন্য উচ্চতায় থাকবে, তা অনুমান করাই যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ম্যাচ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই কলম্বোর হোটেল কক্ষের ভাড়া তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে যেসব কক্ষের ভাড়া রাতপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ ডলার, সেগুলোর জন্য এখন গুনতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬৬০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮১ হাজার টাকা)। জনপ্রিয় হোটেল বুকিং ওয়েবসাইটগুলোতে এমন মূল্যবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট।কলম্বোর তিনটি ট্রাভেল এজেন্সি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর শেষ মুহূর্তে বুকিংয়ের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভারতের চেন্নাই ও দিল্লির মতো বড় শহর থেকে ফ্লাইট বুকিং কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাই থেকে কলম্বো যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টার মতো, কিন্তু অল্প দূরত্বের এই রুটেও ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২৩ থেকে ৭৫৬ ডলার পর্যন্ত। অন্যদিকে দিল্লি-কলম্বো রুটে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে ৬৬৬ ডলারে পৌঁছেছে।শ্রীলঙ্কা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরসের সভাপতি নালিন জয়াসুন্দেরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ হোটেল প্রায় পূর্ণ। অনেক সমর্থকই ‘অল-ইনক্লুসিভ’ প্যাকেজে আসছেন, যার মূল্য ১৫০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত। এসব প্যাকেজে ম্যাচ টিকিট, আবাসন ও যাতায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, চাহিদা এত বেশি যে শেষ মুহূর্তে দাম আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তৃতীয় বৃহৎ উৎস এটি। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামাল দিতে দেশটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে। শ্রীলঙ্কা ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বুদ্ধিকা হেওয়াসাম জানান, বিশ্বকাপের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর ২০ শতাংশই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এসেছে। তার ভাষায়, শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বড় ম্যাচ আয়োজনের সক্ষমতা দেখাতে চায়। এটি শুধু ভারত ও পাকিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের জন্যই ইতিবাচক বার্তা।এদিকে, দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। লাহোরের বাসিন্দা মিয়া সুলতান ম্যাচটি দেখতে কলম্বোয় যাচ্ছেন। তার প্রত্যাশা, এই ম্যাচ জিতলে পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাবে। তিনি বলেন, এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। নিউজিল্যান্ডে থাকা তার এক বন্ধু ম্যাচ দেখতে কলম্বোয় উড়াল দিচ্ছেন; গ্যালারির সামনের সারির টিকিটের জন্য তাকে খরচ করতে হয়েছে ৮০০ ডলার।সব মিলিয়ে, একটি ম্যাচ ঘিরে কলম্বোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অর্থনৈতিক প্রভাব, ভ্রমণ ব্যয় এবং দর্শক আগ্রহের দিক থেকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আলাদা এক মাত্রা যোগ করেছে। এখন শুধু অপেক্ষা, চাপ, প্রত্যাশা আর আবেগের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সারাদেশ

সারাদেশ

ধানের শীষের বিপক্ষে ভোট, বহিষ্কার থেকে জেলা কমিটির সহ-সভাপতি, আরেফিন আলীকে ঘিরে বিতর্ক

ধানের শীষের বিপক্ষে ভোট, বহিষ্কার থেকে জেলা কমিটির সহ-সভাপতি, আরেফিন আলীকে ঘিরে বিতর্ক

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়া ছাত্রদলের এক নেতাকে পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর হাতিয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।অভিযোগ রয়েছে, হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আরেফিন আলী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের বিপক্ষে স্বতন্ত্র ‘ফুটবল’ প্রতীকের প্রার্থী তানভীর উদ্দিন রাজিবের পক্ষে কাজ করেন। এ সময় তিনি ওই প্রার্থীর সিপ (পোলিং) এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়।তবে সম্প্রতি নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে তাকে সহ-সভাপতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে এমন পদে পদায়নকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অপরদিকে, অনেক নেতাকর্মী তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন।স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রকাশ্যে বিরোধী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা একজন নেতাকে কীভাবে এত দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলো। কী প্রক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে তা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। অনেকেই এটিকে “অদৃশ্য শক্তির প্রভাব” বলে মন্তব্য করেছেন।হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও নবগঠিত জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মাহমুদ বলেন, “দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কেউ আবার দায়িত্ব পেলে তা একনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের জন্য কষ্টের ও দুঃখজনক।”উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আব্দুল হালিম বলেন, “বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ছিল দলের শুদ্ধতার প্রতীক। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত যদি পরে উপেক্ষিত হয়, তাহলে শৃঙ্খলার জায়গাটা কোথায় থাকে? যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছে, তাদের অবমূল্যায়ন করা হলে ভবিষ্যতে কেউ আর ত্যাগ স্বীকারে আগ্রহী হবে না।”উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফাহিম উদ্দিন বলেন, “সাংগঠনিক কার্যক্রমের উদ্দেশ্য কর্মীদের উৎসাহিত করা। সেখানে কেউ সরাসরি দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করে আবার গুরুত্বপূর্ণ পদে এলে তা কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করে। এতে কর্মীরা নিরুৎসাহিত হবে। কিছু নেতার ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণেই এমন সিদ্ধান্ত এসেছে বলে মনে হয়।”
২২ এপ্রিল ২০২৬
মতামত

মতামত

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

প্রযুক্তির যুগে বই: পাঠক বাড়ছে নাকি পাইরেসি?

২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস। ইউনেস্কোর উদ্যোগে এ দিনটি পালিত হয় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, পাঠকদের উৎসাহ দেওয়া এবং লেখকদের কপিরাইট রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম একদিকে যেমন প্রযুক্তির স্রোতে বইয়ের বদলে মোবাইল-ট্যাবে মুখ গুঁজে বসে আছে, অন্যদিকে বই প্রেমীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পাইরেসি নামক বিষবৃক্ষ।এক সময় ছিল, যখন বইমেলা থেকে পছন্দের লেখকের বই না কিনে ফেরা যেন অসম্পূর্ণ ছিল। লাইব্রেরির নির্জন কোনায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প-উপন্যাসে ডুবে থাকার সংস্কৃতি ছিল। এখন সেই জায়গায় এসেছে ইউটিউব, ফেসবুক আর টিকটকের ক্ষণস্থায়ী বিনোদন। অবশ্য, প্রযুক্তির এই দাপটের মাঝেও পাঠক আছে, পাঠ্যাভ্যাস আছে—তবে সেটা এখন ভিন্ন এক চেহারায়।বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মনে করে বই পড়া সময়সাপেক্ষ এবং ধৈর্যের পরীক্ষা। বিশেষ করে প্রিন্ট বইয়ের চেয়ে এখন ই-বুক কিংবা অডিওবুকের প্রতি ঝোঁক বেশি। শিক্ষার প্রয়োজনে বই পড়া হয় ঠিকই, তবে গল্প-উপন্যাস কিংবা আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে ধৈর্যহীনতা, আরেকটি হলো সহজলভ্য বিনোদনের বিকল্প মাধ্যম।তবে সবটা নেতিবাচক নয়। বেশ কিছু তরুণ লেখক, ব্লগার এবং বুকটিউবার নতুন করে বইকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছেন। ফেসবুকে বই নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপগুলোতে প্রতিদিন শত শত বই নিয়ে আলোচনা হয়। অনেক তরুণ পাঠক নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে, রিভিউ লেখে, এমনকি নিজস্ব উদ্যোগে বুকক্লাবও গড়ে তুলেছে।তবে প্রশ্ন হলো—এই পাঠাভ্যাস কতোটা টেকসই? শুধু মেলা বা বিশেষ দিবসে বই কেনা আর রিভিউ দেওয়া যথেষ্ট নয়। পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে দরকার পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, পাঠচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানো।পাঠাভ্যাসের এই উন্নতির পথে বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাইরেসি। আজকাল ডিজিটাল প্রকাশনার প্রসারে দেশে বেশ কিছু পোর্টালে বৈধভাবে ই-বুক কেনার চমৎকার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অনেক সময় 'পাঠাভ্যাস চর্চা' বা 'বইপ্রেম'-এর দোহাই দিয়ে নামে-বেনামে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ পোর্টাল, ওয়েবসাইট বা গ্রুপ থেকে ই-বুক ও পিডিএফ সংগ্রহ করে পড়ি। সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করলে, এটি সম্পূর্ণ অনুচিত এবং অনৈতিক একটি কাজ। কেউ কেউ স্ক্যান করে বই আপলোড করে দিচ্ছে, কেউ বা বিক্রি করছে পাইরেটেড কপি। এতে যেমন লেখক, প্রকাশক আর মুদ্রকের মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়, তেমনি পাঠকের ভেতরেও তৈরি হয় বইয়ের প্রকৃত মূল্যবোধহীনতা। নিজের জ্ঞানবৃদ্ধির জন্য আরেকজনের মেধা ও শ্রম চুরি করা কোনোভাবেই প্রকৃত পাঠাভ্যাস হতে পারে না।এই পাইরেসির জন্য শুধু প্রযুক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। আমাদের আইন ব্যবস্থার দুর্বলতা, কপিরাইট সচেতনতার অভাব এবং সস্তায় সবকিছু পাওয়ার মানসিকতা—সবকিছু মিলে একে ভয়ংকর রূপ দিয়েছে। একজন লেখক বছরের পর বছর সময় দিয়ে একটি বই লিখছেন, অথচ সেই বই অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যাচ্ছে—এটা কেবল অবিচার নয়, বরং সৃষ্টিশীলতাকে নিরুৎসাহিত করার সামিল।এর সমাধানে পাঠককে সবার আগে নিজের নৈতিকতার জায়গাটি পরিষ্কার করতে হবে। বিনামূল্যে বা অবৈধ উপায়ে বই পড়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে উৎসাহিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের মাঝে সুস্থ পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হলে পরিবারে শিশুকে বই উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগারমুখী করা এবং বই নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।পাশাপাশি কপিরাইট আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাইরেসির বিরুদ্ধে মনিটরিং জোরদার করা দরকার। লেখক-প্রকাশক এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করে বৈধ ই-বুক মার্কেটপ্লেসগুলোকে আরও সহজলভ্য ও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে। এতে পাঠক যেমন সহজে বই পাবে, তেমনি লেখকও তাঁর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবে।বই কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি জ্ঞানের উৎস, মননশীলতার দর্পণ, এবং একটি জাতির ভবিষ্যতের রূপরেখা। আজ বই দিবসে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের পথে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ। পাঠ্যাভ্যাস ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পাইরেসির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াও অপরিহার্য। বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টাতেই যদি ভবিষ্যৎ বদলায়, তবে সে পৃষ্ঠার পেছনে যেন থাকে শ্রম ও সততার সম্মান। তবেই এই বই দিবস হবে অর্থবহ।লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
তানজিদ শুভ্র